| মোঃ রাসেল রানা |
একদিন মেয়ে তার বাবাকে নিজের জীবন নিয়ে হতাশার অভিযোগ করছিল।বলছিল, সে আর পারছে না,সে জানেনা
কিভাবে কি করতে হবে,
লড়তে লড়তে আজ সে ক্লান্ত।এই যে একটি সমস্যা শেষ হলে আরেকটি হাজির হওয়া।মেয়েটির বাবা
পেশায় একজন রন্ধন শিল্পী।মেয়ের হতাশার কথা শুনে তিনি মেয়েকে রান্না ঘরে
ডেকে আনলেন।তারপর তিনটি পাত্রে পানি ভর্তি করে তা আগুনের উপর বসিয়ে দিলেন।যখন পাত্র তিনটি
গরম হয়ে আসলো,তখন একটিতে আলু, আরেকটিতে ডিম ও
অন্যটিতে কফি ঢেলে দিলেন।এভাবে আরো কিছুক্ষন সিদ্ধ হতে থাকলো।তিনি মেয়ের সাথে
কোনো কথা বললেন না।অন্যদিকে মেয়ে অধৈর্য হয়ে দেখে যাচ্ছিল বাবা কি
করছিল।বিশ মিনিট পরে তিনি চুলা বন্ধ করে একে একে প্রথমে আলু রাখলেন, ডিম রাখলেন এবং
কফি একটি কাপে ঢাললেন।তারপর মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি এখন কি দেখছে।মেয়ে উত্তর দিল "আলু, ডিম আর কফি।বাবা বললেন, ভাল করে দেখ এবং
ধরে দেখ।বাবার কথামত ধরে দেখল,আলু নরম হয়ে
গেছে, ডিমের খোসা খুলে
দেখল ডিম সিদ্ধ হয়ে শক্ত হয়ে গেছে ।অন্যদিকে কফির কাপ থেকে বেরিয়ে আসা ঘ্রাণে তার
মুখ হাস্যজ্বল হয়ে যায়।"এসবের অর্থ কি
বাবা" মেয়ে জানতে
চাইলো।বাবা ব্যাখ্যা করলেন আলু, ডিম, কফিবিন যদিও একই
তাপমাত্রায় ফুটন্ত পানিতে অর্থাৎ একই দৈব পরিবেশের সম্মুখীন হয়েছিল।কিন্তু নিজের মত
করে অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখায়।শক্ত আলু নরম হয়ে যায়,পাতলা আবরনে
সুরক্ষিত নরম ডিম শক্ত হয়ে যায়, আর কফিবিনগুলো সম্পূর্ণ অন্যরকম।ফুটন্ত পানিতে এরা নিজেদের মেলে ধরে নিজেদেরই
পরিবর্তন করে ফেলে, নতুন এক জিনিস
সৃষ্টি করে। "তুমিকোনটা??? " মেয়ের কাছে বাবা
জানতে চাইলেন।প্রতিকূল পরিবেশ যখন তোমার দুয়ারে কড়া নাড়বে তখন তুমি কিসের মতো প্রতিক্রিয়া
দেখাবে????
জীবনে যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন! হতাশ না হয়ে অর্থাৎ নিজেকে মানিয়ে নিয়ে আমাদের
সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিৎ।







